Al-Haqqah

سورة الحاقة

সূরা 69 · মক্কী · 52 আয়াত

69:1পারা 29 · পৃ. 566

الْحَاقَّةُ1

সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা,
____________________
সূরা সংক্রান্ত আলোচনাঃ
[১] الحاقة শব্দ দ্বারা কিয়ামতকে বুঝানো হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর, বাগভী]
আয়াত সংখ্যাঃ ৫২ আয়াত।
নাযিল হওয়ার স্থানঃ মক্কী।
রহমান, রহীম আল্লাহ্র নামে
69:2পারা 29 · পৃ. 566

مَا الْحَاقَّةُ2

কী সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা ?
69:3পারা 29 · পৃ. 566

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحَاقَّةُ3

আর কিসে আপনাকে জানাবে সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী ?
69:4পারা 29 · পৃ. 566

كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌ بِالْقَارِعَةِ4

সামূদ ও ‘আদ সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল ভীতিপ্ৰদ মহাবিপদ সম্পর্কে [১]।
____________________
[১] القارعة শব্দটি قرع শব্দ থেকে উৎপন্ন। قرع শব্দের অর্থ আরবী ভাষায় খট্খট শব্দ করা, হাতুড়ি পিটিয়ে শব্দ করা, কড়া নেড়ে শব্দ করা এবং একটি জিনিসকে আরেকটি জিনিস দিয়ে আঘাত করা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কেয়ামত যেহেতু সব মানুষকে অস্থির ও ব্যাকুল করে দেবে এবং সমগ্র আকাশ ও পৃথিবীকে ছিন্ন-বিছিন্ন করে দেবে, তাই একে قارعة বলা হয়েছে। তাছাড়া কিয়ামতের পূর্বাহ্নে যে মহাশব্দের মধ্যে তার সুত্রপাত হবে এখানে সেদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে। [দেখুন-কুরতুবী]
69:5পারা 29 · পৃ. 566

فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهْلِكُوا بِالطَّاغِيَةِ5

অতঃপর সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্ৰলয়ংকর বিপর্যয়কারী প্ৰচণ্ড চীৎকার দ্বারা,
69:6পারা 29 · পৃ. 566

وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ6

আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা [১] ,
____________________
[১] ريح صر صر এর অর্থ অত্যধিক শৈত্যসম্পন্ন প্রচন্ড বাতাস। [মুয়াসাসার]
69:7পারা 29 · পৃ. 566

سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَىٰ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ7

যা তিনি তাদের উপর প্রবাহিত করেছিলেন সাতরাত ও আটদিন বিরামহীনভাবে; তখন আপনি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখতেন--- তারা সেখানে লুটিয়ে পরে আছে সারশূন্য খেজুর কাণ্ডের ন্যায়।
69:8পারা 29 · পৃ. 566

فَهَلْ تَرَىٰ لَهُمْ مِنْ بَاقِيَةٍ8

অতঃপর তাদের কাউকেও আপনি বিদ্যমান দেখতে পান কি ?
69:9পারা 29 · পৃ. 567

وَجَاءَ فِرْعَوْنُ وَمَنْ قَبْلَهُ وَالْمُؤْتَفِكَاتُ بِالْخَاطِئَةِ9

আর ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টিয়ে দেয়া জনপদ পাপাচারে লিপ্ত ছিল [১]।
____________________
[১] مؤتفكات এর এক অর্থ উল্টে দেয়া, যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। অন্য অর্থ পরস্পরের মিশ্রিত ও মিলিত। লুত আলাইহিস্ সালাম এর সম্প্রদায়ের বস্তি সমূহকে مؤتفكات বলা হয়েছে। [কুরতুবী]
69:10পারা 29 · পৃ. 567

فَعَصَوْا رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةً رَابِيَةً10

অতঃপর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল, ফলে তিনি তাদেরকে পাকড়াও করলেন --- কঠোর পাকড়াও।
69:11পারা 29 · পৃ. 567

إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاءُ حَمَلْنَاكُمْ فِي الْجَارِيَةِ11

যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল নিশ্চয় তখন আমরা তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে,
69:12পারা 29 · পৃ. 567

لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ12

আমরা এটা করেছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্য এবং এজন্যে যে, যাতে শ্রুতিধর কান এটা সংরক্ষণ করে।
69:13পারা 29 · পৃ. 567

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ13

অতঃপর যখন শিংগায় [১] ফুঁক দেয়া হবে ---একটি মাত্ৰ ফুঁক [২] ,
____________________
[১] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, صور কী? জবাবে তিনি বললেন, “শিং এর আকারে কোন বস্তুকে বলা হয় যাতে ফুঁক দেয়া হবে।” [তিরমিয়ী: ২৪৩০, আবু দাউদ: ৪৭৪২]
[২] পবিত্ৰ কুরআনের কোথাও কোথাও এ দুই শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার কথা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ফুৎকারের সময় গোটা বিশ্ব-জাহানের লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার যে অবস্থা সূরা আল-হাজ্জের ১ ও ২ আয়াতে, সূরা ইয়াসীনের ৪৯ ও ৫০ আয়াতে এবং সূরা আত-তাকভীরের ১ থেকে ৬ পর্যন্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে তা তাদের চোখের সামনে ঘটতে থাকবে। পক্ষান্তরে সূরা ত্বা-হার ১০২ থেকে ১১২ আয়াত, সূরা আল-আম্বিয়ার ১০১ থেকে ১০৩ আয়াত, সূরা ইয়াসীনের ৫১ থেকে ৫৩ আয়াত এবং সূরা ক্বাফ এর ২০ থেকে ২২ আয়াতে শুধু শিংগায় দ্বিতীয়বার ফুৎকারের কথা উল্লেখিত হয়েছে।
69:14পারা 29 · পৃ. 567

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً14

আর পর্বতমালা সহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় ওরা চুৰ্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
69:15পারা 29 · পৃ. 567

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ15

ফলে সেদিন সংঘটিত হবে মহাঘটনা,
69:16পারা 29 · পৃ. 567

وَانْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ16

আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে ফলে সেদিন তা দুর্বল-বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে।
69:17পারা 29 · পৃ. 567

وَالْمَلَكُ عَلَىٰ أَرْجَائِهَا ۚ وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ17

আর ফেরেশ্তাগণ আসমানের প্রান্ত দেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফিরিশ্তা আপনার রবের ‘আর্শকে ধারণ করবে তাদের উপরে।
69:18পারা 29 · পৃ. 567

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَىٰ مِنْكُمْ خَافِيَةٌ18

সেদিন উপস্থিত করা হবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কোন গোপনই আর গোপন থাকবে না।
69:19পারা 29 · পৃ. 567

فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ19

তখন যাকে তার ‘আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, ‘লও, আমার ‘আমলনামা পড়ে দেখ [১] ;
____________________
[১] هاؤم শব্দের এক অর্থ, আস। অন্য অর্থ, লও। উদ্দেশ্য এই যে, আমলনামা ডানহাতে পাওয়ার সাথে সাথেই তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে এবং নিজের বন্ধু-বান্ধবদের তা দেখাবে। সে আহলাদে আটখানা হয়ে আশেপাশের লোকজনকে বলবে, লও আমার আমলনামা পাঠ করে দেখ। কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে যে, “সে আনন্দচিত্তে আপনজনদের কাছে ফিরে যাবে” [সূরা আল-ইনশিকাক: ৯]
69:20পারা 29 · পৃ. 567

إِنِّي ظَنَنْتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيَهْ20

‘আমি দৃঢ়বিশ্বাস করতাম যে, আমাকে আমার হিসেবের সম্মুখীন হতে হবে।’
69:21পারা 29 · পৃ. 567

فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ21

কাজেই সে যাপন করবে সন্তোষজনক জীবন;
69:22পারা 29 · পৃ. 567

فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ22

সুউচ্চ জান্নাতে
69:23পারা 29 · পৃ. 567

قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ23

যার ফলরাশি অবনমিত থাকবে নাগালের মধ্যে।
69:24পারা 29 · পৃ. 567

كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ24

বলা হবে, ‘পানাহার কর তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।’
69:25পারা 29 · পৃ. 567

وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ25

কিন্তু যার ‘আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, ‘হায়! আমাকে যদি দেয়াই না হত আমার ‘আমলনামা,
69:26পারা 29 · পৃ. 567

وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ26

আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসেব !
69:27পারা 29 · পৃ. 567

يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ27

‘হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হত !
69:28পারা 29 · পৃ. 567

مَا أَغْنَىٰ عَنِّي مَالِيَهْ ۜ28

‘আমার ধন-সম্পদ আমার কোন কাজেই আসল না।
69:29পারা 29 · পৃ. 567

هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيَهْ29

‘আমার ক্ষমতাও বিনষ্ট হয়েছে।’
69:30পারা 29 · পৃ. 567

خُذُوهُ فَغُلُّوهُ30

ফেরেশ্তাদেরকে বলা হবে, ‘ধর তাকে, তার গলায় বেড়ী পরিয়ে দাও।
69:31পারা 29 · পৃ. 567

ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ31

‘তারপর তোমরা তাকে জাহান্নামে প্ৰবেশ করিয়ে দগ্ধ কর।
69:32পারা 29 · পৃ. 567

ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ32

‘তারপর তাকে শৃংখলিত কর এমন এক শেকলে যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত’ [১] ,
____________________
[১] অর্থাৎ ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ করা হবে, এই অপরাধীকে ধর এবং তার গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। অতঃপর তাকে সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে গ্রথিত করে দাও। এ শিকল সংক্রান্ত এক বর্ণনা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি এ শিকলের একটি গ্রন্থি আসমান থেকে দুনিয়াতে পাঠানো হয় তবে (অতি ভারী হওয়ার কারণে) রাতের আগেই যমীনে এসে পড়বে। যদিও আসমান ও যমীনের মাঝের দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। আর সেটা যদি শিকলের মাথার অংশ হয় (অর্থাৎ আরো বড় ও ভারী হয়) তারপর যদি তা জাহান্নামে ফেলা হয় তবে সেটা তার নিম্নভাগে পৌঁছতে চল্লিশ বছর লাগবে”। [তিরমিয়ী: ২৫৮৮, মুসনাদে আহমাদ; ২/১৯৭]
69:33পারা 29 · পৃ. 567

إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ33

নিশ্চয় সে মহান আল্লাহ্র প্রতি ঈমানদার ছিল না,
69:34পারা 29 · পৃ. 567

وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ34

আর মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না,
69:35পারা 29 · পৃ. 567

فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَاهُنَا حَمِيمٌ35

অতএব এ দিন তার কোন সুহৃদ থাকবে না,
69:36পারা 29 · পৃ. 568

وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ36

আর কোন খাদ্য থাকবে না ক্ষত নিঃসৃত স্রাব ছাড়া,
69:37পারা 29 · পৃ. 568

لَا يَأْكُلُهُ إِلَّا الْخَاطِئُونَ37

যা অপরাধী ছাড়া কেউ খাবে না।
69:38পারা 29 · পৃ. 568

فَلَا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ38

অতএব আমি কসম করছি তার, যা তোমরা দেখতে পাও,
____________________
‘দ্বিতীয় রুকূ’
69:39পারা 29 · পৃ. 568

وَمَا لَا تُبْصِرُونَ39

এবং যা তোমরা দেখতে পাওনা তারও;
69:40পারা 29 · পৃ. 568

إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ40

নিশ্চয় এ কুরআন এক সম্মানিত রাসূলের (বাহিত) বাণী [১]।
____________________
[১] এখানে সম্মানিত রাসূল মানে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। [কুরতুবী]
69:41পারা 29 · পৃ. 568

وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ ۚ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ41

আর এটা কোন কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই ঈমান পোষণ করে থাক,
69:42পারা 29 · পৃ. 568

وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ ۚ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ42

এটা কোন গণকের কথাও নয়, তোমরা অল্পই উপদেশ গ্ৰহণ কর।
69:43পারা 29 · পৃ. 568

تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ43

এটা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
69:44পারা 29 · পৃ. 568

وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ44

তিনি যদি আমাদের নামে কোন কথা রচনা করে চালাতে চেষ্টা করতেন,
69:45পারা 29 · পৃ. 568

لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ45

তবে অবশ্যই আমরা তাকে পাকড়াও করতাম ডান হাত দিয়ে [১] ,
____________________
[১] উপরোক্ত অর্থ অনুসারে এটি সিফাতের আয়াত। অর্থাৎ এর মাধ্যমে আল্লাহ্র ডান হাত সাব্যস্ত হচ্ছে। [ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসুল জাহমিয়্যাহ ৩/৩৩৮] আয়াতের অন্য অর্থ হচ্ছে, আমরা তার ডান হাত পাকড়াও করতাম। উভয় অর্থই ইবন কাসীর উল্লেখ করেছেন। এ অর্থটি এদিক দিয়ে শুদ্ধ যে, সাধারণত কাউকে অপমান করতে হলে তার ডান হাত ধরে তার উপর আক্রমন করা হয়। [ইবন তাইমিয়্যাহ, আন-নুবুওয়াত: ২/৮৯৮] অপর অর্থ হচ্ছে, তাকে আমরা আমাদের ক্ষমতা দ্বারা পাকড়াও করতাম। [সা'দী; জালালাইন; আর দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, আস-সারেমুল মাসলূল আলা শাতিমির রাসূল: ১৭] এটি শুদ্ধ হলেও আল্লাহ্র হাত অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। যা অন্যান্য আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
69:46পারা 29 · পৃ. 568

ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ46

তারপর অবশ্যই আমরা কেটে দিতাম তার হৃদপিণ্ডের শিরা,
69:47পারা 29 · পৃ. 568

فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ47

অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউই নেই, যে তাঁকে রক্ষা করতে পারে।
69:48পারা 29 · পৃ. 568

وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ48

আর এ কুরআন মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই এক উপদেশ।
69:49পারা 29 · পৃ. 568

وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنْكُمْ مُكَذِّبِينَ49

আর আমরা অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে মিথ্যা আরোপকারী রয়েছে।
69:50পারা 29 · পৃ. 568

وَإِنَّهُ لَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِينَ50

আর এ কুরআন নিশ্চয়ই কাফিরদের অনুশোচনার কারণ হবে,
69:51পারা 29 · পৃ. 568

وَإِنَّهُ لَحَقُّ الْيَقِينِ51

আর নিশ্চয় এটা সুনিশ্চিত সত্য।
69:52পারা 29 · পৃ. 568

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ52

অতএব আপনি আপনার মহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন।

সূরার শুরু থেকে চালান